মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।
আর এই জোট সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন শাহবাজ শরিফ। জোটের এ ঘোষণার পরও ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খানের দল পাকিস্তান–তেহরিক–ই ইনসাফ (পিটিআই)।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, প্রধানমন্ত্রী পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে পিটিআই। বৃহস্পতিবার দলটির মহাসচিব ওমর আইয়ুব খানকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কারাগারে ইমরানের সঙ্গে কথা বলার পর দলের নেতা আসাদ কায়সার এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত ওমর আইয়ুব খান পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক মার্শাল আইয়ুব খানের (১৯৫৮-১৯৬৯) নাতি। ২০১৮ সালে ইমরান খানের মাধ্যমে পিটিআইতে যোগ দেন তিনি।
পিটিআইয়ের নেতা আসাদ কায়সার বলেন, পিটিআই মহাসচিব ওমর আইয়ুব প্রধানমন্ত্রী পদে আমাদের দলের প্রার্থী হবেন। ইমরান খান তাকে মনোনীত করেছেন। আইয়ুবের প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে পিটিআই অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।
এর আগে ইমরান খান সরকারের আমলে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ওমর। প্রথমে বিদ্যুৎমন্ত্রী, এরপর পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এবং সবশেষ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি। এবারের নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৯২টি আসন পেয়েছে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে পিএমএল-এন ৭৯ ও পিপিপি ৫৪ আসন। কোনো দল বা জোট সরকার গঠন করতে হলে ১৩৪টি আসন প্রয়োজন।
নানা জল্পনার পর বুধবার জোট গঠনের ঘোষণা দেয় পিএমএল-এন ও পিপিপি।
এতদিন পিএমএল-এন থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে নওয়াজ শরিফের কথা বলা হচ্ছিল। তবে রাতে হঠাৎ করে নওয়াজ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ছোট ভাই শাহবাজকে মনোনীত করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে পিপিপির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি জানিয়েছিলেন, সরকারের অংশ না হলেও পিএমএল-এনের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে সমর্থন দেবে তাঁর দল। এক সংবাদ সম্মেলনে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড় থেকে তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করছেন।