আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দেয়া হবে। এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গোপনে জামায়াত অনেকটা এগিয়ে গেছে। পক্ষান্তরে বিএনপির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই হয়তো বলবে, পপুলার রাজনৈতিক দলের আগাম প্রস্তুতি লাগে না। এটি ভুল ধারণা। জাতীয় নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। শুধুমাত্র বিএনপির বিদ্রোহী এবং দ্বন্দ্বের কারণে।
স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। ভোটের মাধ্যমে যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে তারাই তৃণমূল রাজনীতিতে এগিয়ে যাবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগেভাগেই মাঠে নেমেছে জামায়াত। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করে তারা ইতোমধ্যে নীরব প্রচারণা শুরু করেছে। সংগঠনের তৃণমূল ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করে ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে ক্যাডার ভিত্তিক রাজনৈতিক দলটি। পরিকল্পিতভাবে ইসলামের দোহায় দিয়ে সাধারণ মানুষকে জাতীয় নির্বাচনের মতো আবারো বিভ্রান্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে অর্ন্তকোন্দল এখনো বিরাজমান। অনেক এলাকায় একাধিক প্রার্থী নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে নিজেরাই বিভক্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন। তৃণমূলে দলীয় ঐক্যের অভাব প্রতীয়মান হচ্ছে। বিএনপি বিপুল ভোটে ক্ষমতাসীন হলেও বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এই উপলব্ধি পাচ্ছে না বলে তৃণমূলের অনেকের আক্ষেপ।
যে কোন মূলে বিএনপির তৃণমূলকে চাঙ্গা রাখতে হবে। বিগত ১৭ বছর বিএনপিকে ধরে রেখেছিলো এই তৃণমূলের ত্যাগী এবং নির্যাতিতরা। তাদেরকে কোনভাবেই অবহেলা না করে প্রভাবশালীদের আত্মীয় স্বজন এবং ফ্যাসিবাদ এবং গুপ্তবাদকে পুর্নবাসন রাজনীতি পরিহার করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সফল হতে হলে সময়মতো প্রার্থী নির্ধারণ, ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ এবং সংগঠনের কার্যকর ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। প্রচারণা শুরুতে দেরি হওয়া, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং সমন্বয়ের অভাব-অবিলম্বে দূর করতে হবে। যেসব এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জিতেছে সেখানে বিএনপির নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। ওই এলাকায় বিএনপির হাইকমান্ডের বিশেষ নজর দিতে হবে। জামায়াতের হাতে তৃণমূলের রাজনীতি চলে গেলে জনগণ চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। লাভবান হবে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এখন থেকে বিএনপিকে তৃণমূলের রাজনীতির বিষয়ে আরো সিরিয়াস পলিসি গ্রহণ করা অপরিহার্য বলে মনে করছি।
-সাইদুর রহমান