নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘৯৫ ভাগ মানুষ এই সরকারের বিপক্ষে। তারা গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছে, লড়াই করবে। আগামী দিনে সেই লড়াই সংগঠিত করে সরকার পতনের আন্দোলন সামনের দিকে যাবে। আবারও ঢাকার রাস্তায় জনতার মিছিল হবে।’
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে’র উদ্যোগে কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে ও শরীফুল ইসলাম শাওন সঞ্চালনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, ‘এই সংসদ কাজ করতে পারবে না। ওদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। জনগণ তাদেরকে ভোট দিতে যাইনি। এই জনগণ এখন সাহস করে রাজপথে মিছিলে আসবে। আবারো এই ঢাকা নগরী মিছিলে মিছিলে সয়লাব হয়ে যাবে। তখন আওয়ামী লীগের লোকদের খুঁজে পাবেন না। খুব বেশি দিন নাই। আমরা সেই লড়াই চালাচ্ছি।’
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবাই সরকারের কাছে ঋণের টাকা পায়, কিন্তু সরকার কাউকেই টাকা দিতে পারে না। এর ফলে আগামীতে জনগণ নানান সংকটের সম্মুখীন হবে। এই সরকার খুনি, ডাকাত, লুটেরা। মানুষের রক্ত খেয়ে তারা নিজেদের বাঁচানো ব্যবস্থা করছে। কোনো জিনিসের দাম কমেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যুতের টাকা দিতে পারে না, আদানি, সানেম টাকা পায়, টাকা দিতে পারে না। এই সরকার নিঃস্ব সরকারের মতো। ইন্টারনেট ঠিকমতো চলে না, কারণ যারা নেট সার্ভিস দেয় তাদের টাকা সরকার পুরোটা দিতে পারেনি।’
বিএনপির নেতাকর্মীরা অসহনীয় জীবন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘গত দেড় মাসের মধ্যে একটা দলের ২০ থেকে ৩০ হাজার নেতাকর্মী জেলে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি এতো বড় নির্যাতন, অত্যাচারের মধ্যেও তারা দাঁড়িয়ে আছে। তাদের নেতাকর্মীরা ধানের ক্ষেতে মশারি টানিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তবে এই কষ্ট বেশিদিন থাকবে না। অচিরেই তাদের সুদিন আসবে।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, ‘ভোটাধিকার হরণ করায় নৌকা প্রতীক এখন এতটা ঘৃণীত প্রতীকে পরিণত হয়েছে, নৌকা থাকলে মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যাবে না। তাই তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছে।’
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংক, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এ্যাড. আবদুস সালাম আজাদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, কাজী রওনুকুল ইসলাম টিপু, গিয়াস উদ্দিন খোকন প্রমুখ।