বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র মনে হয় না, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র মনে হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বললেন, সমস্ত জাতি আজ ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। সরকার সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদ যখন আক্রমণ করে, তখন তাদের হাত থেকে গণমাধ্যমও রেহাই পায় না।
শুক্রবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইফতার মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি আমরা। শুধু বিরোধীদল নয়, পেশাজীবী নয়, পুরো জাতি একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্মুখীন হয়েছে। ১৮ থেকে ২০ বছর হবে আমরা গণতন্ত্রকে হারিয়ে ফেলেছি। সেইসঙ্গে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলেছে সরকার।
তিনি বলেন, আমরা যাদের বিশ্বাস করি, যাদের ওপর আস্থা রাখি- গণমাধ্যম। সেই গণমাধ্যমের ওপর প্রথম আঘাত করেছে সরকার। অনেক টেলিভিশন-পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। যারা লিখতে চান, মতপ্রকাশ করতে চান, তাদের জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করেছে সরকার। তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে মারা হয়। এ সরকারের হাত থেকে গণমাধ্যমও রেহায় পায়নি, পায় না। ফ্যাসিবাদ শক্তি যখন আক্রমণ করে তখন কেউ রেহাই পায় না।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেকে ভাবছেন বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে গেছে, কিন্তু কখনই না। প্রতিটি আন্দোলনের পরে আরও শক্তিশালী হয়েছে এ শক্তিগুলো।
২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ হয়নি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মির্জা ফখরুল, হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ডান-বাম সকলে মিলে দৃঢ়ভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে সরকারের পতন করা হবে।
ইফতার মাহফিলে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, কবি আব্দুল হাই শিকদার, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ।