রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সন্ত্রাস, দখলদারি ও নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে মশিউল আযম চুন্নুর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাস, দখলদারি ও নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান ও সম্প্রতি সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাবলী উল্লেখকালে নিজ কলেজে ঘটে যাওয়া একটি অসন্তোষজনক ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন,
গত ২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দী উপজেলার জামালপুর ডিগ্রী কলেজে মশিউল আযম চুন্নুর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত কলেজে প্রবেশ করে ভাঙচুর, নৈরাজ্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এই সময় চুন্নুর নেতৃত্বে শতাধিক গুন্ডা বাহিনী অধ্যক্ষের রুমে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপুর্বক কলেজের আহবায়ক হিসাবে তাঁর নিজের নাম প্রস্তাব করার জন্য নির্দেশ দেয়, শিক্ষাঙ্গনে তাঁর এমন আচরণ দেখে থমকে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এসময় সাধারণ শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কিত হয় বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাঙ্গনের পাঠদান।
উক্ত ঘটনার বিবরণ কালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন,
আমরা এ ধরণের অসভ্য উচ্ছৃংখল বিশৃঙ্খলা কারীকে কলেজের আহবায়ক কমিটিতে দেখতে চায় না।
এরকম ব্যক্তি শিক্ষাঙ্গনের অভিভাবকের দায়িত্ব পেলে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে এবং তাঁদের সন্ত্রাসী প্রভাব শিক্ষা অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যকলাপে বাঁধা সৃষ্টি করবে।
এ ধরণের ব্যক্তিতে শিক্ষা অঙ্গনের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করলে সাধারণ শিক্ষার্থী মেনে নেবে না বলে কঠিন হুশিয়ারী দেয় এবং এরূপ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করে সন্ত্রাস রুখে দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সভ্য শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন তাঁরা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, এর আগে অভিযুক্ত মশিউল আযম চুন্নুর আচরণের বিরুদ্ধে জামালপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন মৃধা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অধ্যক্ষ জাকির হোসেন মৃধা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামালপুর ডিগ্রী কলেজে অভিভাবক হিসেবে একজনকে নাম প্রস্তাব করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ভিসি) বরাবর পাঠানোর নির্দেশনা এসেছে। তাঁর আলোকে চুন্নু কলেজে আসেন কিন্তু কলেজে আসার পরবর্তী সময়ে তাঁর আচরণ সন্তোষজনক ছিল না।
তিনি আরও বলেন, চুন্নুর বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি অভিযোগ দিয়েছে। আসলে বিষয়টি আমার হাতে নয়, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হবে। তাদের নির্দেশনায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ডাকে প্রতিবাদী মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে এবং শিক্ষাঙ্গনে মশিউল আযম চুন্নুর উচ্ছৃংখল অসভ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসাথে চুন্নুর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সারাফাত ইসলাম, অনিক, মুরাদ শেখ, আশিক শেখ, নাবিল দেওয়ান, সিফাত প্রমুখ।